
বাংলা কল্পবিজ্ঞান গল্প - ব্যোম যাত্রীর ডায়েরি Bengali science fiction story bomjatrir diary Bangla kolpobigyan golpo bomjatrir diary, বঙ্গ লিখন ,bongo likhon
24জুলাই 2070
বীপ- বীপ - বীপ যান্ত্রিক শব্দ আর দুটো নিথর দেহ ছাড়া কোনো শব্দ নেই ঘর টি তে। নীলাভ ultraviolet আলোয় মায়াবী পরিবেশ । ৩২০ বছর ধরে যাতে দুটি দেহে কোন ভাইরাল বা ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন না হয় তাই এই ব্যবস্থা। প্রাণহীন মহাকাশের মধ্যে আলোর থেকে কিছু কম গতিতে ছুটে চলেছে মহাকাশযানটি দুই নভশ্চর কে নিয়ে।
৩২০ বছর পর পৌঁছাবে কেপলার 15 নামে গ্রহটিতে। ল্যান্ডিং এর পরে ছোট্ট ইলেকট্রিক স্পার্ক এর মাধ্যমে প্রাণ ফিরে পাবে দুই নভশ্চর, বেরিয়ে আসবে তাদের ক্রায়োজেনিক স্টেট থেকে। ৩ বছর আগে বাংলার তরুণ বিজ্ঞানী তমোঘ্নর আবিষ্কার রাস্তা খুলে দিয়েছিল মানবজাতির সুস্থ হয়ে বাঁচার উপায়। তমোঘ্ন এমন এক যন্ত্র আবিষ্কার করে যাতে অবিকৃত রাখা যায় শরীর বছরের পর বছর ঘুমন্ত অবস্থায়।
বছরটা দুই হাজার কুড়ি সমগ্র পৃথিবী covid ১৯ নামে এক ভাইরাসের কবলে, ইঁদুর দৌড় শুরু হয় সারা পৃথিবীর বিজ্ঞানীদের মধ্যে এই রোগের ভ্যাকসিন তৈরীর জন্য। যে ভ্যাকসিন তৈরি করতে তিন চার বছর লাগে, তা মাত্র দেড় বছরেই তৈরি করে এক সংস্থা। কাগজে-কলমে সব টেস্টিং ঠিক হলেও, ভ্যাকসিনের পার্শপ্রতিক্রিয়া নির্ধারণ করা যায়নি। 2021 সালে শেষের দিকে, ওই মারণ রোগ থেকে বাঁচতে প্রায় সমগ্র পৃথিবীবাসী গ্রহণ করে ভ্যাকসিন, মুছে যায়, কভিড এর অস্তিত্ব ধন্য ধন্য পরে সাধারণ ও বিজ্ঞানীমহলে। কিন্তু 4 বছর কাটতে না কাটতেই দেখা যায় মানুষের গড় আয়ু অনেক বেড়ে গেছে, জন্ম ও মৃত্যুহারে বিশাল পার্থক্য গড়ে ওঠে, এই দশ বছরে গোটা পৃথিবীতে, মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় নগণ্য কিন্তু জন্মহার একই রয়ে গেছে। প্রমোদ গোনে বিজ্ঞানীরা , সব দেশের সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয় জন্মনিয়ন্ত্রণের, নড়েচড়ে বসে সরকার ডিক্রি জারি হয় সন্তান ভূমিষ্ঠ করতে অনুমতি নিতে হবে সরকারের কাছে কিন্তু তাও ঠেকানো যায়নি, বেঁকে বসে ধর্মের কান্ডারীরা , সাধারণ মানুষকে ও বোঝানো যায়নি জন্মনিয়ন্ত্রণ না করতে পারলে কি ভয়ানক পরিণতি হবে। ফলে আরো ৫ বছর পর ,পৃথিবীর জনসংখ্যা ২০ বিলিয়ন হয়ে দাঁড়ায়, তীব্র খাদ্যাভাব বেকারত্ব গ্রাস করে পৃথিবী কে, শুরু হয় বিপ্লব ভেঙে পড়ে শাসন ব্যবস্থা গোটা পৃথিবীতে চলে অরাজকতা।
মানুষের গড় আয়ু এখন প্রায় দেড়শ বছর। রাস্তাঘাটে প্রায় কঙ্কালসার মানুষ সারি বেঁধে শুয়ে , উৎপাদিত খাদ্যের চেয়ে মানুষ অনেক বেশি। রাষ্ট্রনায়কেরা নিজেদের দেশের অধিকাংশ পুঁজি লাগিয়ে দিলেন নতুন গ্রহের সন্ধানে , তৈরি হল " ওয়ার্ল্ড স্পেস অর্গানাইজেশন" WSO। খোঁজ পাওয়া গেল কেপলার 15 নামে গ্রহের যা পৃথিবী থেকে ৩০৬ আলোকবর্ষ দূরে অর্থাৎ পৃথিবী থেকে এক আলোর রশ্মি কে ওই গ্রহে পৌঁছাতে সময় লাগে ৩০৬ বছর। এরপর কেটে গেছে প্রায় ১0 বছর পৃথিবীর বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ৬0 বিলিয়ন খাদ্যাভাবে প্রায় 30 বিলিয়ন মানুষ মারা না গেলে সংখ্যাটা 90 বিলিয়ান হত। এত কিছুর পরেও নিয়ন্ত্রণ রাখা যাচ্ছে না জন্ম হারে। এই ১0 বছরে মহাকাশযান তৈরি করা সম্ভব হয়েছে যা আলোর গতির সমতুল্য। বিজ্ঞানীরাও সফলভাবে বলতে পেরেছে কেপলার 15 বাসযোগ্য। বিধাতার পরিহাসে মানুষের গড় আয়ু এখন প্রায় দেড়শ বছর হলেও তার দ্বিগুণ সময় লাগবে ওই গ্রহে পৌঁছাতে। ফলে এত বছরের গবেষণা বন্ধ রেখে সরকার মনোযোগ দেয় গোষ্ঠী বাঁচাতে। বিশাল বিশাল প্রাচীর ঘেরা শহর তৈরি হয় যাতে বাস করতে শুরু করে নির্বাচিত কিছু মানুষ যারা কোনো না কোনো বিষয়ে পারদর্শী, অধিকাংশ অতি সাধারণ মানুষের ঠাঁই হয় পাঁচিলের বাইরে। আরো ৩0 বছর কেটে যায় এই ভাবে।
তমোঘ্ন জন্মগ্রহণ করে 'কলকাতা কনফাইনমেন্ট যোনে'। যখন সব প্রাচীরের ভেতরের সুবিধাপ্রাপ্ত মানুষ অভ্যস্ত প্রাচীরের বাইরের ওই পীড়িত মানুষের দিকে তাচ্ছিল্য পোষণ করতে, তমোঘ্নর বালকমন মেনে নিতে পারেনি। ছোটবেলা থেকেই উত্তর খুঁজতে থাকে এর বিহিতের। আবিষ্কৃত হয় তার হাত ধরে ক্রায়োজেনিক ইঞ্জিন যেখানে ঘুম পাড়িয়ে রাখা যেতে পারে একটা মানুষকে বছরের পর বছর অবিকৃত অবস্থায়। নতুন আশা যোগায় এই আবিষ্কার, সমগ্র পৃথিবী বাসীর সুস্থ জীবনের, নতুন ঠিকানায়।
বীপ- বীপ - বীপ যান্ত্রিক শব্দ আর দুটো নিথর দেহ ছাড়া কোনো শব্দ থাকবে না ঘর টি তে। নীলাভ ultraviolet আলোয় মায়াবী পরিবেশে ঘুমিয়ে থাকবো আমরা দুজন ৩২০ বছর ধরে। মহাকাশের মধ্যে আলোর থেকে কিছু কম গতিতে ছুটে চলবো নতুন আশার খোঁজে....
_25 July 2070_
সপ্তর্ষি সান্যাল
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Your comment is valuable to us thank you and please subscribe through email