বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট

Latest news, শীঘ্রই আসছে

ছবি
Latest news , শীঘ্রই আসছে, বঙ্গ লিখন , খবর আমরা খবর নিয়ে আসবো আপনাদের সামনে , যা হবে  ১০০ শতাংশ সত্যি,  Notification টা allow করে, চলতি  ভাষায় লেখা খবর পেয়ে যান আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারে সোজাসুজি। আমাদের খবর পাঠাতে বা আমাদের সাথে যুক্ত হতে  যোগাযোগ করুন আমাদের ফেসবুক পেজ এ,বা ইমেইল করুন sanyalsaptarshi57@gmail.com , এ।

বাংলা গল্প ইন্দ্র-সমর bengali story Indra Samar by shouvik chaterjee


বাংলা গল্প ইন্দ্র-সমর bengali story Indra samar,bongo likhon


অফিস থেকে বাইরে বেরিয়েই ইন্দ্রর ছোটো বেলায় পড়া ভুগোল বই এর কথা মনে এলো সূর্য নাকি লম্ব ভাবে কিরণ দেয় কখন যেন একটা! তবে লম্ব কি না জানে না ইন্দ্র।শুধু বুঝতে পারছে,জুন মাসের পলিউশন মাখা শহুরে সূর্য গরম শলাকা হয়ে নেমে এসেছে ওর মাথায়,গলায়,হৃদপিন্ডে,অন্ত্রে, ধীরে ধীরে জ্বালিয়ে দিচ্ছে ওকে।আসলে সূর্য নয়, বসের কথা গুলো বিষাক্ত পোকার মতো কাটছে ওকে ভিতরে ভিতরে!
 'ওয়ার্থলেস শব্দটা মনে হয়,তোমার জন্যই তৈরি।আমার এই এত বছরের এডিটর লাইফে তোমার মতো,এক পিস ও দেখিনি।আজ পর্যন্ত,একটা শুধু,একটা স্টোরি,ভালো স্টোরি চেয়েছিলাম,দিতে পেরেছো? পারোনি!তোমার চাকরি রাখার দায় টা আমার?'শেষ কথাটায় চিৎকার করে উঠেছিলো এডিটর মনোহর পান্ডে।না ইন্দ্রর জিজ্ঞেস করা হয়নি,'ভালো স্টোরির সংজ্ঞাটা ঠিক কী?'গতবছর বন্যায়, জীবন বাজি রেখে স্টোরি করেছে,সাথে ছবি।বিশেষ একটা ছাপা হয়নি।মন্ত্রীর ছেলের বিয়ে,দুর্গা পুজোর খুঁটি পুজোর স্টোরি ক'রে,প্রমিলা কী ভাবে যেন বিখ্যাত অফিসে;তা জানতে দেওয়ালে কান না পাতলেও চলে,অফিসে পা দিলেই শোনা যায়,দেখাও যায় বৈকি!বঙ্গ কেন্দিক একটা মধ্যম মানের দৈনিক সংবাদপত্রের সাংবাদিক ইন্দ্র।
 'কিছু কিছু মানুষকে দেখলেই,মনের ভিতরে একটা ভাইব্রেশন হয় আর শুয়োরের বাচ্চা বলে একটা শব্দ উঠে আসে..'আজ মনে হচ্ছিলো বলেই দেয়,'শুয়োরের বাচ্চা তোর চাকরি তুই তোর কাছে রাখ বে,ইন্দ্র ব্যানার্জীর চাকরির দরকার নেই,নেহাত...'এই নেহাত শব্দটাই সবসময় গোলমাল পাকায়।বাবা বারবার বলে 'এখনো সময় আছে, ব্যবসাটায় এসে হাল ধর!'ওদের বেশ জমাটি একটা ডিস্ট্রিবিউশন এর ব্যবসা।বসলেই হয়।কিন্তু,সাংবাদিকতা ওর প্যাশন।গ্র‍্যাজুয়েশনের পর,দিল্লি ইউনিভার্সিটি তে মাস্টার্স এর সুযোগ মিলেছিলো,আবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে জার্নালিসম পড়ার হাতছানি।অদ্ভুত দোটানায় অস্থির হয়ে উঠেছিলো তখনো! শেষমেশ আমির খান রক্ষা করলেন।'থ্রি ইডিয়টস্ 'এলো, বাবা- মা বুঝলেন।আসলে এখন বোঝে,ওর অস্থিরতাটা নজর এড়ায় নি ওদেরও।সিনেমা উপলক্ষ্য মাত্র।তাই এ জগত ছেড়ে ফিরে যাওয়া মানে যে আবার পিছিয়ে যাওয়া,নিজের কাছেই হেরে যাওয়া।কিন্তু যখন এই জীব গুলোর কাছে আত্মসম্মান বাজি রাখতে হয়,তখনই ভীষণ সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে ইন্দ্র।আর মনে পড়ে,অপরাজিতা কে।'দেখো বাবার চেনা জানা অনেকে আছে মিডিয়ায়,তোমায় বলতে হবে না,আমিই বাবাকে বলে সব ব্যবস্থা করে দিচ্ছি।'কিন্তু 'হ্যাঁ' বলতে পারে নি ইন্দ্র।আত্মসম্মানে আটকে ছিলো।তবে এবার সত্যিই মনে হচ্ছে,অপরাজিতাকেই বলতে হবে,'কিছু একটা করো।'কিম্বা সবকিছু স্বপ্ন জলাঞ্জলি দিয়ে বসে যেতে হবে বাবার ব্যবসায়।আজকের দিনটাই হয়তো সময়,একটা স্ট্রাইকিং স্টোরি,কিম্বা একটা দুরন্ত ছবি,যা দেখে কেঁপে যাবে কালকের সকাল বা ব্যাগ গুছিয়ে ফিরে যেতে হবে,বাড়ি।এই সব হিজিবিজি চিন্তা করতে করতেই কখন যে হাইরোডে উঠেছে খেয়ালই নেই ওর।সূর্য ইতিমধ্যে আরো জ্বলে উঠেছে।মূলত,এই রাস্তা টায় টু হুইলার ওঠা নিষেধ, কিন্তু বিধি আছে, বিধিভঙ্গ করলে তা দেখার কেউ নেই।তাই 'হালকা ঝুঁকি নিয়েই নেওয়া যায়'!এখান দিয়ে সোজা গিয়ে ডানদিকে ঘুরলে পলাশপুর,কাল ওখানে একটা ডাকাতি হয়েছে,আর বাঁ দিকে ঘুরলে বাঁকি ডাঙ্গা ওখানে মিড ডে মিলের ভাতে না কি টিকটিকি পাওয়া গিয়েছে,হেডমাস্টার এর চাকরি যায় যায় অবস্থা!কোন খবরটা আগে করবে এই দোটানায়,ঈষৎ চিন্তা করছিলো ইন্দ্র। অকস্মাৎ দূর থেকেই নজরে আসে,রাস্তার মাঝবরাবর একটা ছোট্ট জটলা।
              একজন মা,পোশাকাদি দেখে  ভিখারিনী বলেই মনে হয়,কোলে মাসতিনেকের একটা শিশু নিয়ে রাস্তা পেরোচ্ছিলো,একটি সরকারি গাড়ি,বেলাগাম গতি তে ধাক্কা দেয়,গাড়িটিও রাস্তায় নিয়ন্ত্রন হারিয়ে পালটি খেয়েছে।শিশুটি অক্ষত,মা এর থেকে ছিটকে গিয়েছে,এখম হামা দিয়ে মা এর কাছে আসছে।'মহিলা নির্ঘাত মারা গিয়েছে'কাছাকাছি পৌঁছানোর কিছু আগেই সমগ্র বিষয়টা জলের মতো পরিস্কার হয়,ইন্দ্রর। 'সরকারি  গাড়ির নেগলিজেন্সে,বা বেগালাম গতির বলি,নিরীহ!''ক্যাপশন পরে ভাবা যাবে।' 'আচ্ছা বাচ্চাটা কে ফোকাস করে ওর মা কে ব্যাকগ্রাউন্ড এ রেখে কয়েকটা ছবি!বহুটাকায় বিক্রি হবে।নিজেকে আফ্রিকান চিত্রগ্রাহক কেভিন কার্টার মনে হয়,আর আশপাশের লোকগুলো যেন শকুন! 'কিন্তু কেভিন কার্টারের পরিণতি,যাগ গে!সব্বার ক্ষেত্রে কি একই হবে নাকি!' ওকে অনেক উপরে উঠতে হবে।সিঁড়ি সামনে।খবরটা কালকের কাগজে ছবি সমেত আসবেই,মনোহরের বাচ্চার কিচ্ছুই বলার থাকবে না!চাকরি টা স্থায়ী হবে।অপরাজিতার সাথে বিয়েটাও..বাবা মার দুশ্চিন্তা কমবে।না, একেবারেই থাকবে না হয়তো!একটু সুস্থির জীবন।'প্রেস ক্লাবে ওরও সম্মান থাকবে।আরো কত কী।হয়তো এরপর,অনতিবিলম্বেই প্রিন্ট মিডিয়া থেকে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় শিফট করবার সুযোগ।এক মুহুর্তে সমস্ত জীবনটা চোখের সামনে মেলে ধরলো স্বপ্ন।কাছে পৌঁছে গিয়েছে ইন্দ্র।আরো একজন সাংবাদিক জুটে গিয়েছে।তবে ও ছবি তোলে না,'সঙ্গে ফোটোগ্রাফার মালটা নেই',ইন্দ্রর সুবিধে,ও নিজেই দুটো কাজই পারে।আজ সুযোগই সুযোগ।জীবনই এমন সুযোগ দেয়।অনেক কাছে,প্রায় পরে থাকা মহিলার থেকে তিনগজ দূরে ইন্দ্র।'একি এ যে বেঁচে আছে,বুকটা হালকা ওঠানামা করছে,এক্ষুনি হাসপাতাল নিয়ে গেলে বেঁচে যাবে।কিন্তু ছবিটা,সাথে খবর টা করলে ইন্দ্র বেঁচে যাবে! কে মূল্য দেবে মূল্যবোধের! কেউ না।কিন্তু নিজের কাছে!তীব্র দোটানা টাগ অব ওয়ারের মতো ছিঁড়ে ফেলছে ওকে।কর্মের ধর্ম আর মনের ধর্মের সম্মুখ সমরে পুড়তে শুরু করলো ইন্দ্র।
 এ্যাক্সিডেন্ট কেস,কেউ খুব কাছে আসছে না,সবাই বৃত্ত ক'রে দাঁড়িয়ে জীবন-মৃত্যুর ম্যাচ দেখছে।ছুটে যায়,ইন্দ্র;কিচ্ছু মাথায় নেই আর ওর।ইন্দ্র নিজের অজান্তেই অর্জুন হয়ে গিয়েছে,পাখির চোখের মতো,একটাই লক্ষ্য,'ওদের বাঁচাতেই হবে!'বাচ্চাটিকে কোলে তুলে নেয় এক হাতে।কেউ একটা পাশ থেকে বললো,'আরে কী করছেন!কী করছেন!ছোঁবেন না,পুলিশ কেস..'
 'চোপ শালা,শুয়োরের বাচ্চা,'চিৎকার করে ওঠে ইন্দ্র।একটা ট্রাক দাঁড় করায়।
 
 মহিলাটি বেঁচে যান।পরের দিন কাগজে বেরোয়।ইন্দ্রর খবর কেউ রাখেনি আর!

 ---------

 শৌভিক চ্যাটার্জী

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বাংলা রহস্য গল্প 'ক্রিমিনাল', bengali thriller story Criminal by Tina Bhatyacharya, bongo likhon

বাংলা প্রতিবেদন - ক্ষুদিরাম bengali article on sahid khudiram bose

বাংলা-কবিতা - প্রণমি তোমারে,Bangla kobita pronomi tomare