বাংলা গল্প ব্যবধান, bengali story byabodhan, bongo likhon
সকাল থেকে ঠাকুর ঘরে চুপটি করে বসে আছে তিতলি। রেজাল্ট বেড়ানোর দিন এই জায়গাটাই তার শান্তির মনে হয়। টেস্ট এর রেজাল্ট দেখে মা বাবা খুব কষ্ট পেয়েছিল , তবে খুব খেটেছে তিতলি ,দিন রাত এক করে পড়েছে , মাধ্যমিক বলে কথা , তার উপর পাড়া পড়শী , আত্মীয় স্বজনের সামনে মা বাবার মুখ রক্ষা করতে হবে তো । মাকে ও তো কম শুনতে হয় নি। টেস্ট এর রেজাল্টের পরই তো ফোনের পর ফোন ,মা ও পালা করে করে শোনাতো , "দেখেছিস তো দাদা দিদি দের কত ভালো রেজাল্ট সব, তুই আমাদের মুখ টা রাখবি তো মা সবার সামনে ?"তিতলি বোঝে তাকে ঘিরে কত স্বপ্ন মা বাবার।
আজ আবার জামাই ষষ্ঠী, পিসি পিসাই রা এসেছে, বাড়িতে আজ কত্ত লোক , দেখে দেখে আজকেই রেজাল্ট টা বের করতে হলো ? মিমি ও এসেছে , তিতলির ছোটো পিসির মেয়ে মিমি ,দুজনে হরিহর আত্মা, দুজনের দুজন কে ছাড়া চলে না ,দেখা হলে তো সারাক্ষণ একসাথে । তবে আজ তিতলি সকাল থেকে ঠাকুর ঘরে , মিমির সাথেও কথা হয় নি ওর, মাত্র এক বছরের ছোট বড়ো ওরা , অসম্ভব ভালো ছবি আঁকে মিমি ,কিন্তু তা নিয়ে কারোর মাথাব্যথা নেই কারণ পড়াশোনায় সে অতি সাধারণ। নবম থেকে দশম শ্রেণি তে উঠতে অসফল হয়েছে মিমি, অত বড়ো নামী স্কুল এর সাথে ঠিক খাপ খাওয়াতে পারেনি মেয়েটা, রেজাল্ট শুনে আত্মীয় স্বজন, পাড়া পড়শী র ঘুম উড়ে গেছিলো , আনন্দে না দুঃখে সেটা তারাই জানে ।
সকাল ১০.৩০ নেট এ রেজাল্ট আউট হওয়ার কথা, বাবা ১০ টা থেকে কম্পিউটার এর সামনে বসে । টেনশনে ওই ঘরমুখো হয়নি তিতলি । হটাৎ বাবার চিৎকার , হৈ হৈ করে ওঠে সব , মা ডাকে তিতলি কে ,মার স্বর টা যেনো বুক ভরা আনন্দ আর তৃপ্তি মেশানো। হবে নাই বা কেন? ৮৭% মার্কস পেয়েছে তিতলি। মা বাবার চোখে জল আনন্দে , ঠাম্মি এসে জড়িয়ে ধরে তিতলি কে , পিসি পিসাই রাও খুব উচ্ছ্বাসিত তাকে নিয়ে , মিষ্টি আনা হয়েছিল জামাইষষ্ঠী উপলক্ষে ,দাদাভাই থালায় সাজিয়ে এনে গুঁজে দিচ্ছে সবার মুখে , মা ,মাসি মামা দের ফোন করে খবর দিচ্ছে । সবাই এত্ত খুশি শুধু তার জন্য, এইদিন টা সারা জীবন স্মৃতিতে গেঁথে থাকবে তিতলির।
হটাৎ ছোট পিসির গলা কানে এলো , "দেখ তিতলির রেজাল্ট দেখ ,আর তুই মুখ পোড়ালি আমাদের "। তিতলির চোখ যায় ,দেখে দরজার কোণে দাঁড়িয়ে আছে
মিমি ,মাথা নিচু, কথা বলছে না , কিন্তু তিতলি জানে ওর খুশি তে মা বাবা ছাড়া আর যদি কেউ সব থেকে বেশি খুশি হয় তাহলে সেটা মিমি, তাহলে ও আজ খুশি নয় কেনো ?এইরকম একটা মুহূর্ত ওর জীবন কখনো আসেনি বলে ? এক মুহূর্তে যেন দূরত্ব তৈরি হয়ে গেলো মিমি আর তিতলির মধ্যে । তিতলি ক্ষণিকের জন্য মনে হলো এত ভালো রেজাল্ট সে না করলেই পারতো , মা বাবা একটু কম আনন্দ পেত , কিন্তু মিমির কষ্ট হয়ত কিছু টা কম করতে পারতো সে ।।
কলমে - প্রীতি চক্রবর্তী
প্রচ্ছদ শিল্পী - প্রীতি চক্রবর্তী
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Your comment is valuable to us thank you and please subscribe through email