
বাংলা গল্প পঁচিশ বসন্ত পরে
তাহলে বলো আমরাও দেখতে দেখতে 25 টা বসন্ত পাড় করে দিলাম ভাবতে পেরেছিলে এটা সম্ভব হবে।বলো দেখতে দেখতে মেয়েটাও কত বড় হয়ে গেল মনে আছে তোমার সাথে দেখা হওয়ার প্রথম দিনটা.......
হ্যাঁ ভুলতে পারি নাকি.....
মাম্মা আজ তোমাকে আমাকে সব বলতেই হবে.....
কি বলবো নতুন করে সবই তো জানিস......
না তুমি আজ এই সুন্দর দিনে তুমি আজ তোমার সব কথা আমার আর বাবার সাথে বলবে।
তোর বাবা সবটাই জানে....
তখন আমার বয়স 4 বছর আর আমার ভাইয়ের বয়েস দেড় বছর হবে ।।।হঠাৎ মা মারা গেল তখন আমার সব থেকে কাছের বলতে আমার ভাই আমাদের ঠিকানা তখন বা শেষ আশ্রয় আমাদের মামা বাড়ি।।।তা মামাবাড়ির অবস্থায় খুব একটা ভালো না কারণ দাদুর একার আয়ের উপর আমাদের সংসার তার মধ্যে আমি আমার ভাই মামা মাসি সব মিলিয়ে আমরা ছয় জনের সংসার ।।।সেখান থেকে বড় হওয়া আস্তে আস্তে আমাদের দুজন কে স্কুলে ভর্তি করে দিলো।।আস্তে আস্তে প্রাইমারি থেকে উঠে হাই স্কুলে ভর্তি হলাম আমরা দুজন পড়াশোনার খরচ বাড়তে লাগলো এর পর স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে কলেজে প্রবেশ করার পালা।
তখনই আস্তে আস্তে পরিবারের কিছু মানুষের আসল রূপ টা দেখতে পেলাম।।আমার পড়াশুনা নিয়ে আপত্তি কিন্তু আমার ভাইয়ের জন্ম সব ঠিক থাক ।
আসলে আমাদের সমাজে তখনও মেয়েদের নিচু চোখে দেখা হতো।আমরা আসলে নামেই আধুনিক হয়েছি মুখেই আধুনিকতার বড়াই করি।
তারপর কলেজ শেষ করে আমাকে চাকরির জন্য যেতে হলো হয়তো বাড়ির লোক চাইলেও পড়াতে পারতো কিন্তু সেটা আর হলো না ।
অবশ্য ভালোই হয়েছে বলে পড়লে তো তোমাকে আর পেতাম না বলো???????
হমম.....
মাম্মা বলো বলো.......
বয়েস তো প্রায় পঞ্চাশের দোরগোড়ায় চলে গেল।এই জীবনে অনেক কিছুই দেখলাম একটা ছোট মেয়ে যার জীবনের জ্ঞান তখনও হয়নি তাকে অভাবের সংসারের মধ্যে কিভাবে বোরো হতে হয় ।কাছের মানুষ কিভাবে দায়িত্ব এড়িয়ে যায় আর সব থেকে ভয়ানক অভিজ্ঞতা হলো নিজের কাছের মানুষদের নোংরা দিক গুলো খুব ভালো করে দেখেছি আসলে কি বলতো অসহায় মানুষের দুর্বলতার সুযোগ সবাই নিতে চায় সে কাছের মানুষ যতই হোক।কিন্তু সেই দিক দিয়েই একটা অচেনা অজানা মানুষ কে এক মুহূর্তে বিশ্বাস করে তার সাথে এই এত গুলো দিন কিন্তু কাটিয়ে দিলাম ।।
জানিস এটাই দুনিয়ার নিয়ম তুই আঘাত পেতে পেতে এমন হয়ে যাবি যে আর হয়তো কাওকে বিশ্বাস করতে পারবি না কিন্তু সেই সময় কেও এমন এসে তোকে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সারাজীবন থাকবে আসলে এই অসহায় মানুষ গুলো শুধু ভালোবাসায় থেকে যেতে চায় একটা নিজের ভরসার আশ্রয় খোঁজে।।
সত্যি যে আশ্রয় টা আমি পেয়েছি।
তার পর একদিন আমার চাকরির ওখানে ই তোর বাবার সাথে আলাপ হলো কি জানি কেমন যেন তাকে বিশ্বাস করে ফেললাম ঠিক করলাম বিয়ে করবো কিন্তু বাড়ি ?
বাড়িতে জানলে আমি কি করবো?আমায় তো তাড়িয়ে দেবে আবার হয়তো বাড়িতে থাকলে আমার কোনোদিন ঘর সংসার কিছুই হতোনা।
তাই অগত্যা এমন একটা অজানা অচেনা ছেলের হাত ধরে বেরিয়ে পড়লাম জানিও না তখন ভুল করছি না ঠিক করছি কারণ তখন আমার কাছে দুটো রাস্তা খোলা এক আমার বাড়িতে আমাকে আস্তে আস্তে অত্যাচারিত হতে হবে বা আমাকে নিজের জীবন নিজেকেই বেছে নিতে হবে।
এক অদ্ভুত মানসিক দ্বন্দ্বের মধ্যে একদিন ঘর ছাড়লাম ।
এসে উঠলাম এক অজানা অচেনা এক পরিবারে সত্যি আমার হয়তো মা বাবা না থাকার অভাব টা তারা পূরণ করে দিলো এত ভালোবাসা আমায় কেও কোনোদিন দেয়নি এত সন্মান আমি কোথাও কোনো দিন পাইনি।
এখন যখন শুনিনা যে এর শাশুড়ি খারাপ ওর শশুর বাড়ী ভালো না আমার তখন বলতে ইচ্ছে হয় পৃথিবীর সব মেয়ের কপালে যেন এমন শশুর শাশুড়ি জোটে।একটা মা মারা মেয়েকে তাদের নিজের মেয়ের মতো করে ভালো বেসেছে আমাকে তার বাড়ির সব দায়িত্ব দিয়েছে ।
আজ আমি তাদের জন্যই সম্পূর্ণ একজন মা হয়ে উঠতে পেরেছি।
আসলে কি বলতো হয়তো ভগবান একটা দরজা বন্ধ করে দিলে আর একটা দরজা খুলে দেয়।
তবে কত কাছের মানুষের পরিবর্তন সেই ছোট থেকেই খেয়াল করছি বয়েস যত বেড়েছে তত আরো এই জিনিস গুলো বেশি করে বুঝি।কাছের মানুষের ভালো দিক আর একটা ভালো রূপী মানুষের নোংরা দিক সেটাই খুব কাছ থেকে দেখলাম এই জীবনে ।
ওই জন্যই তো তোকে আমরা খুব আগলে মানুষ করি।।।
সব ভরসার হাত ছেড়ে যায়না বা সবাই ভালোবসতেও পারে না ভালোবাসলে আগলে সারাজীবন রাখতে হয়।
হঠাৎ একটা অদ্ভুত নিস্তব্ধতা সবার চোখেই জল একজন আর এক জনের দিকে তাকাচ্ছে ।বয়সের চাবিকাঠি এমন এক জায়গায় নিয়ে আজ দাঁড়িয়েছে তাদের তারা যেন আজ বছর পঁচিশের যৌবনে ফিরে গেল ঠিক যেমন প্রথম হাত টা ধরে বলেছিল বিশ্বাস করো সারাজীবন পাশে থাকব।
ছেড়ে যাবোনা
সে কিন্তু তার কথা রেখেছে।।।
আরে চলো বৃষ্টি তা মনে হচ্ছে একটু থেমেছে আজ ডিনার বাইরে আজ যে তাদের বিবাহ বার্ষিকী আর এই আজ ডিনারের আয়োজন করেছে তাদের মেয়ে কারণ সে সদ্য ভালো একটা চাকরি পেয়েছে ।
সত্যি কি অদ্ভুত তৃপ্তি মা না থাকা মেয়েটা আজ তার নিজের মেয়ের টাকাই খেতে যাবে এটাই হয়তো সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।।।
কারণ ওরে তুই তো আমার মা আমার মে।।।।
✍️ অগ্নিভ
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Your comment is valuable to us thank you and please subscribe through email