বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট

Latest news, শীঘ্রই আসছে

ছবি
Latest news , শীঘ্রই আসছে, বঙ্গ লিখন , খবর আমরা খবর নিয়ে আসবো আপনাদের সামনে , যা হবে  ১০০ শতাংশ সত্যি,  Notification টা allow করে, চলতি  ভাষায় লেখা খবর পেয়ে যান আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারে সোজাসুজি। আমাদের খবর পাঠাতে বা আমাদের সাথে যুক্ত হতে  যোগাযোগ করুন আমাদের ফেসবুক পেজ এ,বা ইমেইল করুন sanyalsaptarshi57@gmail.com , এ।

বাংলা খোলা চিঠি ইতি শৌভিক। একটা আধখোলা চিঠি Bengali story open half letter by shouvik chaterjee

kholachiti, open letter, bangla golpo online khola chithi

বাংলা খোলা চিঠি ইতি শৌভিক। একটা আধখোলা চিঠি Bengali story open half  letter,bongo likhon


প্রিয়,
যিনি পড়ছেন তিনি,

চিঠি লেখালিখির যুগের মানুষ আমরা নই,সে অর্থে।তবে এযুগের মানুষও যে দু এক খানা চিঠি   প্রেয়সী কে লিখেছেন বা দু একটি চিঠি অপরপক্ষ থেকেও পেয়েছেন যে নির্ঘাত,এতো বলাই বাহুল্য।তবে সে সব ঢেউ অতীত সমুদ্রের  এ হারিয়ে গিয়েছে বহুকাল পূর্বেই।সে সব চিঠি নেহাতই আবেগজাত,কিছু অপ্রয়োজনীয়ও হয়তো!তবে অতি বাল্যকালে আমারাও পরিবারের মানুষজন কে চিঠি আদানপ্রদান করতে দেখেছি বৈকি।বিজয়া দশমীর পর,মা কাকিমা দের উপুর হয়ে চিঠি লিখে প্রণাম, শুভেচ্ছে দিতে দেখেছি,দূরান্তে থাকা বয়োজ্যেষ্ঠ দের।সেও এক অন্য রোমান্টিসিজম। শুধু কি শুভেচ্ছা আদান প্রদান!,কত প্রয়োজনীয় চিঠিও আসতো যেত।যারা সংগ্রহী মানসিকতার মানুষ,তারা কালতীর্ণ সেই পত্রাদি সংগ্রহে রাখেন যত্নে।মাতামহকে মায়ের উদ্দেশ্যে চিঠিতে বলতে দেখেছি,'তোমার কনিষ্ঠা ভগিনীর বিবাহ স্থির করিলাম।বড় সজ্জন পরিবার',ইত্যাদি কিম্বা 'তোমার ভাই শিক্ষকতার চাকুরি পাইয়াছে' ইত্যাদি তবে তখন ব্যক্তি আমিটির বিশেষ বর্ণজ্ঞান হয়নি।সদ্যউদিত শিশু পুত্রাবস্থাই বলা যায়।সে সব চিঠিচাপাটি আজকাল পড়ি।বেশ লাগে!
       এখন বাইরে বৃষ্টি। বৃষালী আবহাওয়া চিরকালীন পছন্দের।সদর দরজার উপর মাধবীলতা কুঞ্জবনের মতই সুন্দর।বিকেল বর্ষায় বেশ,মাথা দোলাচ্ছে তিরতির করে।কার্নিশ এর বর্গাকার শুকনো জায়গায় কুণ্ডলীকৃত হয়ে ঘুমোচ্ছে মায়ের সাদা বিড়ালটি।মায়ের ধারণা ওটিই মায়ের নাকি একমাত্র বাধ্য এ বাড়িতে।শহরে অর্ধদিবসের লকডাউন।রাস্তা প্রায় শুনশান, পিচের রাস্তাও নিশ্চিন্তে ভিজচ্ছে,তেমন কেউ বিরক্ত করার নেই।প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞায়,অতিমারির শঙ্কাতেও প্রায় আস্ত একটা মফস্বল নিজের নিজের বাড়িতে,ঝুপড়িতে,ত্রিপলের নিচে, ব্রিজের তলায় আশ্রয় নিয়েছে।
         এককথায় চিঠি লিখতে দারুণ বোধ হয়।নিশ্চিন্তে কয়েক কথা বলা যায়।অপেক্ষারত কলের ঝামেলা নেই,কান উতপ্ত হয়ে ওঠার জ্বালা নেই,বাক্যের মাঝে কথা শুনতে না পাওয়ার বিরক্তি নেই।অদৃশ্য স্রোতার উদ্দেশ্যে মন জোড়া অনুভূতির মুক্তিযাত্রা যেন!বেশ শৌখিন শৌখিন  ভাব হচ্ছে।একটা যেন পরিবর্তন।আমরা সেই প্রজন্মের মানুষজন,যারা বহুপরিবর্তনের সাক্ষী। ভাবতেও অবাক লাগে!আমরা সেই বিরল সৌভাগ্যবান কতিপয় কয়েকশো কোটি, যারা একটি শতাব্দীকাল এর অবসান এবং নতুন শতাব্দীর সূচনা দেখেছি।যদিও সেবছর আর পাঁচটা ইংরাজি  নববর্ষের মতই মনে হয়েছিল।শুধু ওয়াই টু কে বলে কিছু একটা শুনেছিলাম,বুঝিনি কিস্যু।বোঝার চেষ্টাও করিনি।আমরা বাল্যকালে,সরকারি দূরদর্শন এর দুটি কি তিনটি চ্যানেল থেকে কৃত্রিম উপগ্রহ নিয়ন্ত্রিত শতাধিক টিভি চ্যানেল আসতে দেখেছি।আমরা,গান শোনার জন্য টেপ্,ছোটো ছোটো সহজ বহনযোগ্য 'ওয়াকম্যান' দেখেছি,ছোটো ছোটো আয়তক্ষেত্রাকার ক্যাসেট দেখেছি,যাতে দুই দিক মিলিয়ে বড়জোর দশ বারোটি গানের স্থান সংকুলান হত।আমরা ফ্লপি,সিডি,এমপি থ্রি,মাইক্রোচিপ ইত্যাদিতে সহস্র সঙ্গীতের জোগান দেখেছি।আবার শূন্য মাধ্যমে হাজারো বিনোদনের আবির্ভাব দেখেছি,আলাদিনের প্রদীপের মতো গুগলের মতো সার্চ ইঞ্জিন দেখেছি,যা চাই তাই হাজির করে,ভার্চুয়ালি।আমরা সিপিএম কে হারতে দেখেছি।নরেন্দ্র মোদিকে জিততে দেখেছি।আরো বহু পরিবর্তন দেখেছি,এই জীবনের আসা যাওয়ার পথের ধারে।
         সামগ্রিক আকস্মিক পরিবর্তনকে যদি বিপ্লব বলা যায়,তবে নির্ঘাত আমরা, যাদের বয়স পঁচিশ থেকে পঁয়ত্রিশ এর মধ্যে তারা বিপ্লব হতে দেখেছি।পুঁথি থেকে কাগজের আবির্ভাব দেখিনি।আমরা শ্রীরামপুর প্রেস দেখিনি উনবিংশ শতাব্দীর গোড়ায়, আমরা বিখ্যাত প্রকাশক গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্য কে দেখিনি,আমরা সাগরময় বাবু,বাদল বাবুদেরও দেখিনি,তা সত্বেও নিশ্চিন্তে বলা যায় আজ এক অদ্ভুত যুগ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি আমরাই।
             বাংলা সাহিত্যে লিটল ম্যাগাজিনের অবদান ঠিক কী! তা নিয়ে আস্ত দু চার খন্ডের বা আরো বড় বই লেখা যেতে পারে।চিঠি পত্রে সে সব কথা থাক।চিঠি,তাও যদি মুক্তমনে বেশ সুখী হয়ে লেখা হয়,শুধুশুধু তাকে ভারাক্রান্ত করে কীই বা লাভ।থাকুক না,নাম গন্ধহীন বনফুলের মত,ছড়িয়ে ছিটিয়ে,আটপৌরে আলস্যে।যে কথা হচ্ছিল,লিটল ম্যাগাজিন কে নিয়ে এককথায় বলতে গেলে,বলতে হয়,এটা সেই ছায়াপথ যেখান থেকে জন্ম হয়েছে অসংখ্য জ্যোতিষ্ক, নক্ষত্রের।
        তবে খুব বেদনার কথা হল,লিটল ম্যাগাজিন, যারা দীর্ঘদিন বাংলা সাহিত্যে নক্ষত্র সরবরাহ করে আসছেন,তাদের দারিদ্র্য চিরন্তন। কিছু মানুষ, বড় ভালোবাসা,আন্তরিকতা আর আত্মীয়তা নিয়ে লিটল ম্যাগাজিন গুলি চালাতেন বা চালান
।এরপর একদিন মহামারি এলো,সব বন্ধ হলো,প্রেস বন্ধ হলো,কিন্তু খুলে গেল এক নতুন উদ্যানের সিংহদুয়ার!ব্লগ।যদিও পুরোপুরিভাবে নতুন তা নয়।বস্তুত এটি ওয়েবসাইট, যার দরজাটি দেওয়া হয় ফেসবুকের পেজে।এক্ষেত্রে ফেসবুকের ভূমিকা অসামান্য। ফেসবুক না থাকলে এত সহজে ওয়েবসাইট গুলির  হোদিশ পাওয়া দুষ্কর হত।পেজে দেওয়া লিঙ্ক,এককথায় পাঠক কে পড়তে উৎসাহিত বা  উদ্দীপিত করার প্রযুক্তিগত পদ্ধতি। আবার বিনা অর্থ ব্যায়েও আজকাল ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়।তবে তার সীমাবদ্ধতাও আছে।
     লিটল ম্যাগাজিন বা যেকোনো পত্রিকা তখনই সফল হবেন,যখন সে লেখা নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ হবেন,কঠোর হবেন।আমরা যারা আজকাল ছোটো,সেজো, মেজো,বড়ো ইত্যাদি ব্লগে লিখি,তাদের মনে রাখা দরকার যা কিছুই লেখা হচ্ছে তার আয়ুষ্কাল বড়ই কম।তাই অধিক লিখতে হয়,অস্তিত্ব রক্ষায়,আর বলপূর্বক অধিক লেখা মানে তাতে খুব একটা কিছু থাকবে না পড়ার মত,এ সত্য তিক্ত,তবু তো সত্য।তবু এডমিন রা পোস্ট করে দেন,প্রায়সময় দেখি।আলাপ এক বস্তু,লেখা আর এক,আলাপের সাথে লেখা মিশিয়ে ফেললে প্রলাপ ছাড়া বিশেষ কিছু আসবে না,নিশ্চিত। এডমিন আর সম্পাদকে একটা ফারাক আছে,সেই ফারাক টা রাখলে চলবে কেমন করে?এই লকডাউনে ফুচকা,রসগোল্লা, ডালগোনা কফি আর কবিতা,এই চারটির প্রোডাকশন সবচেয়ে বেশি এবং স্বাভাবিক ভাবেই,সমাদর অনাদর দুইই আছে,এডমিনরা প্রচুর লেখা পাচ্ছেন,ফেসবুকিয়ান পাঠকরা ছবির মতো কবিতা, রসগোল্লা, ফুচকা ও কবিও পাচ্ছেন।এখন দায়িত্ব হচ্ছে তাদের যারা এই পরিবর্তন এর কাণ্ডারি,যারা এই পরিবর্তনের অংশ।
    ব্লগে লেখালিখির যে বিপ্লব এসেছে,যে কল্পরথের স্বপ্নউড়ান পাখনা মেলেছে,তা যেন স্বল্পায়ু, স্বল্পায়তন না হয়।এক নতুন লেখক-প্রজন্ম জন্ম নিক ব্লগের গর্ভে।এই অদ্ভুত পরিবর্তনের চৌকাঠে দাঁড়িয়ে যে সমস্ত লিখিয়েরা লিখছেন,এডমিন রূপী সম্পাদকরা প্রকাশ করছেন সে সব,এদেরই মধ্যে কেউ কেউ হয়তো জায়গা করে নেবেন ইতিহাসের পাতায়, সাক্ষী দেবেন বিপ্লবের।
 আজ আসি।
 সকলে নিরন্তর ভালো থাকুন।
আর শুনুন না,মাস্ক পড়বেন কিন্তু কেমন।
ভালোবাসা নিন।
                                       ইতি,

                                        শৌভিক।

new bengali writer souvik chatterjee, notun bangla lekhok souvik chaterjee


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বাংলা রহস্য গল্প 'ক্রিমিনাল', bengali thriller story Criminal by Tina Bhatyacharya, bongo likhon

বাংলা প্রতিবেদন - ক্ষুদিরাম bengali article on sahid khudiram bose

বাংলা-কবিতা - প্রণমি তোমারে,Bangla kobita pronomi tomare