বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট

Latest news, শীঘ্রই আসছে

ছবি
Latest news , শীঘ্রই আসছে, বঙ্গ লিখন , খবর আমরা খবর নিয়ে আসবো আপনাদের সামনে , যা হবে  ১০০ শতাংশ সত্যি,  Notification টা allow করে, চলতি  ভাষায় লেখা খবর পেয়ে যান আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারে সোজাসুজি। আমাদের খবর পাঠাতে বা আমাদের সাথে যুক্ত হতে  যোগাযোগ করুন আমাদের ফেসবুক পেজ এ,বা ইমেইল করুন sanyalsaptarshi57@gmail.com , এ।

বাংলা গল্প - সুখ Bengali story sukh Bangla golpo sukh by preety chakraborty

bangla golpo online sukh

বাংলা গল্প - সুখ Bengali story sukh Bangla golpo sukh , bongolikhon


ভাত ,ডাল ,আলু পটলের তরকারি ,মাছের ঝোল ,চাটনি চটপট বাটিতে সাজাচ্ছে অপর্ণা । দশ বাড়ির খাবার সুমন বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেয়। আজ একটু বেশি সকাল-সকাল শুরু করেছে ছেলের স্কুলে মিটিং আছে সেখানে যেতে হবে। হাতের জাদুতে বেশ কয়েক মাসের মধ্যেই সারা ফেলে দিয়েছে অপর্ণার হোম ডেলিভারির ব্যবসা । এখন ছোট বড় অনুষ্ঠানেও খাবার পৌছে দিচ্ছে , প্রয়োজনে লোক নিয়ে নেয়। 
তুমি কিন্তু বিকেলে কোন কাজ রেখো না চৌধুরীর বাড়ি যাবো কথা বলতে , খাবারগুলো ব্যাগে ভরতে ভরতে সুমনকে বলল অপর্ণা ।  সুমন চুপ , এইসময় যদি বলে বিকেলে সৌরভ কে আসতে বলেছে আঁকার ব্যাপারে কথা বলতে তাহলে আর রক্ষে নেই তাও বললো  ,তুমি তো মা দশভূজা সব একাই সামলে নাও । থাক হয়েছে , মন ভুলানো কথা বলতে হবেনা, সব আমি সামলাবো না ? ছেলের স্কুল, রান্নার কাজ ;  আচ্ছা বাবা  যাব , আর তুমি জানো মন ভোলানো কথা নয় এগুলো, তুমি এইভাবে সব টা না সামলালে কী করতাম আমি সত্যি জানি না । আচ্ছা এবার যাও খাবার গুলো পৌছে দিয়ে এসো , দেরি হচ্ছে তো। সুমন জানে ইচ্ছে করেই ওকে চুপ করিয়ে দেয় অপর্ণা , চাকরি চলে যাওয়ার পর কোন রকম একটা দোকানে কর্মচারীর কাজ নিয়ে ঢুকেছিল, অপর্ণা ব্যবসা শুরু না করলে সংসারটা ভেসে যেত । শুধু অপর্ণা সংসারের হাল ধরেছে বলে আঁকার স্কুল টা খুলতে পেরেছে সুমন ,না হলে এই ঝুঁকি টা নেওয়া সম্ভব হতো না। এইসব ভাবতে ভাবতেই স্কুটারে স্টার্ট দেয় সুমন ।
 
সূর্য দপ দপ করে জ্বলছে মাথার উপর , শীততাপ নিয়ন্ত্রিত গাড়ি থেকে নামে অরিন্দম চৌধুরী। পৈতৃক ব্যবসার বেশির ভাগ টাই সেই সামলায় এখন। সবকিছু নিজের বশে রাখার পছন্দ তার এমনকি নিজের স্ত্রী উদিতা কেও । স্বামী কে তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতে দেখলে খুব একটা খুশি হয় না উদিতা ,নিজের ঘরে একা থাকার সময় টুকু শেষ হয় বলেই হয়ত । পোশাক বদলাতে বদলাতে বলে অরিন্দম , সন্ধ্যেবেলা তৈরি থেকো কটা নিমন্ত্রণ সেরে আসবো , কিন্তু আজ ওবাড়ি যাওয়ার কথা ছিল যে ,জানে আর বলে লাভ নেই তাও বলল উদিতা । সে তুমি পরে চলে যেও বলেই বাথরুমে চলে গেল অরিন্দম । কষ্ট টা বাপের বাড়ি না যেতে পারার নয়, সকাল থেকে মেয়ে জামাইয়ের পছন্দের রান্না গুলো করে রেখেছিল মা । আসলেই বড় বাড়ির বউ হওয়া টা বাইরে থেকেই সুন্দর অন্দরমহলের গল্পটা যদি কেউ জানতো তাহলে বুঝতে পারত ,সে ঘর সাজানোর পুতুল ছাড়া আর কিছুই নয় । কাল যদি সে মরেও যায় সত্যি কি কেউ অভাব বোধ করবে তার এ বাড়িতে ওই পেটের ছেলে টা  ছাড়া ?তাকেও হয়তো  ভুলিয়ে দেবে দামী দামী খেলনা দিয়ে । ছেলে টাকেই বা কাছে পায় কতক্ষন , ঠাকুমা তো নাতি কে চোখের আড়াল করে না ।রূপের জোরে বাকি সবাইকে পিছনে ফেলে অরিন্দম চৌধুরী বউ হয়েছে সে, কিন্তু কেউ যদি তাঁর মন টাকেও  বুঝত একটু , অবশ্য অরিন্দম চৌধুরী ভাবে টাকা দিয়েই পৃথিবীর সব সুখ কেনা যায় , তাই উদিতাও সুখী ।  মা বাবা ও বোঝে এখন  মেয়ের বড়লোক শ্বশুর বাড়িতে সম্মান রাখতে গিয়ে তাদের মধ্যবিত্ত পরিবারে বেশ টান পড়ে । 
টেবিলে ছেলের খাবারের থালা সাজাচ্ছিল অনুরাধা , উদিতা কে দেখে বলে শোনো , বাড়িতে বলে দিও যেন সকাল-সকাল জন্মদিনে তত্ত্ব টা পৌঁছে দেয় সবাই দেখত তাহলে । উদিতা মৃদু স্বরে বলে , ছোট করে তো হচ্ছে মা ,আবার শুধু শুধু এইসব তত্ত্বের  কী প্রয়োজন ? দেখো যেটা বোঝোনা সেটা নিয়ে কথা বলো না ছোট করে হলেও আত্মীয়রা তো আসছে, আর আমার একমাত্র নাতির জন্মদিন, দুই বাড়ির   মানসম্মানের ব্যাপার , আর হ্যাঁ অনুষ্ঠানের দিন আবার নিজে নিজে সাজতে যেও না, পার্লারের মেয়েটাকে ডেকে নিও , একরকম আদেশ দিয়ে নিজের কাজে মন দিল অনুরাধা ।

বিকেল ৫ টা , সুসজ্জিত ঘরে দামি সোফায় বসে আছে অপর্ণা আর সুমন , কথা অনুযায়ী সময়ের আগেই এসে পড়েছে । সরি একটু লেট হয়ে গেল অনেকক্ষণ এসেছেন বুঝি জিজ্ঞেস করল অরিন্দম , সময় না দিয়ে মূলকথায় চলে গেল সরাসরি, বড়লোকরা বোধহয় নিজেদের ব্যস্ত দেখাতে পছন্দ করে । মনে মনে ভাবল সুমন । দু গ্লাস কোল্ড ড্রিঙ্কস নিয়ে বসার ঘরে এল উদিতা ,অপর্ণা দেখছিল উদিতাকে , হিংসা করার মতোই রূপ । দেখুন আপনাদের নাম আগে শুনেছি ,এক বন্ধুর পার্টিতে খেয়েছিলাম আপনাদের রান্না বেশ ভালো তাই কাজটা আপনাদেরই দিতে চাই । ব্যবসাটা কি আপনারা দুজন মিলেই করেন ? জিজ্ঞেস করলো অরিন্দম । সব আমার স্ত্রী সামলায়, আমি সাহায্য করি মাত্র মৃদু হেসে বললো সুমন । হাসিটা বেশ গর্ব আর অহংকার মেশানো লক্ষ্য করলো উদিতা। অপর্ণা সাথে সাথে বললো আসলে  ও পাশে না থাকলে আমি পারতাম না , বাজার করা ,খাবার পৌঁছানো সব ও করে। বেশ ,আসল কথায় আসা যাক তাহলে ,সকালে পঁচিশ,আর  বিকেলে  দেড়শো মতো লোক হবে , টাকা নিয়ে প্রবলেম নেই খাবার যেন ভাল হয় । আমাদের রান্নার কোয়ালিটি নিয়ে আপনার কোনো চিন্তা নেই বললো অপর্ণা , আমরা রান্না করেই বাড়িতে পৌঁছে দিই, তবে আপনারা চাইলে এখানেও  করতে পারি, সেক্ষেত্রে মেনুটা আলোচনা করে নিলে ভালো হয় । মাকে ডাকে অরিন্দম , যেরকম ঠিক হয়েছিল সেই মতো বলে , ফিস বাটার ফ্রাই , কুলচা, চানা মশলা , বাসন্তী পোলাও, মটন কষা ,চাটনি, পাঁপড় । চানা মশলার বদলে পনির করলে হতো না ? বললো উদিতা । আহ্ বলছি  তো আমি কথা ,আর পনির এ বাড়িতে  কেউ পছন্দ করেনা তুমি তো জানো । জানে উদিতা, কিন্তু সে যে বাড়ির কেউ না সেটা জানত না ।  চুপচাপ দাঁড়িয়ে অপর্ণা আর  অরিন্দমের কথোপকথন শুনতে লাগলো উদিতা । দেখছিল অপর্ণাকে , একজন  স্ত্রী কে, যে তার স্বামীর অহংকার , দেখছিল সুমনকে গর্ব করার মত জীবনসঙ্গী পেয়েছে , যার ছোট্ট জগতে তার বউ টাই সব ,কত  সম্মান একে অপরের জন্য । সে কি পারত না বড়লোকের লোকদেখানো বউ না হয়ে অন্য কিছু হতে ? সারাদিন নিজের অস্তিত্ব খুঁজে না বেড়িয়ে কারোর জীবনে সব টুকু হতে ? গলার কাছে দলা পাকানো কষ্টটাকে কোনো রকমে সামলে নিয়ে মুখে হাসি  ফোটালো উদিতা ।🙂

কলমে - প্রীতি চক্রবর্তী

new bengali writer, bangla golpo online sukh


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বাংলা রহস্য গল্প 'ক্রিমিনাল', bengali thriller story Criminal by Tina Bhatyacharya, bongo likhon

বাংলা প্রতিবেদন - ক্ষুদিরাম bengali article on sahid khudiram bose

বাংলা-কবিতা - প্রণমি তোমারে,Bangla kobita pronomi tomare