বাংলা গল্প বংশধর, bengali story/golpo/novel 'Bangsadhar' by preety chakraborty,bongo likhon
রিপোর্ট পজিটিভ। মা হতে চলেছে উস্রি। ডাক্তারের চেম্বার থেকে বেরিয়েই আগে মার কাছে যাবে ঠিক করে ফেললো । মা কে আভাস দিয়েছে সকালেই , তাও কনফার্ম নিউজ টা সবার আগে মাকেই দেবে , অফিস থেকে ছুটি টা পেলেই মা বাবার কাছে গিয়ে উঠবে ।এই সময় মার আদর কার না ভালো লাগে ? তাছাড়া এমাসের টাকা টাও দিতে যেতে হবে। প্রতি মাসে মাইনে পেয়ে দশ হাজার টাকা একরকম জোর করেই দিয়ে আসে মাকে । নিতে দ্বিধা বোধ করে শর্মিলা। বিয়ে হলে সত্যি বোধহয় পর হয়ে যায় মেয়েরা,দাদা দিলে খুশি খুশি নিতো হয়তো। সারা জীবন প্রাইভেট ফার্মে চাকরি করে শেষ জীবনে কটা টাকাই বা হাতে আছে বাবার ? সে থাকতে মা বাবা কেন কষ্টে থাকবে ? কীসের জন্য চাকরি করছে সে ? রেগুলার চেকআপ , ওষুধপত্র ঠিক ঠাক খাওয়া হচ্ছে কিনা সেই বিষয়ে ও একদম কড়া শাসন চলে উস্রির । সমীর আর পরমা ব্যাঙ্গালোরে থাকে , বছরে একবার আসে তাও খুব কম সময় নিয়ে, মাঝে ফোন করে উস্রি কে, একই কথা বলে বারবার , " যা খরচ এখানে রুপু ,সব দিক সামলে ওঠা মুশকিল , কী করবো বল ?এখনতো ফেরাও সম্ভব না" । কিচ্ছু বলে না উস্রি শোনে শুধু , হয়তো বোঝেও,কথা গুলো দাদা ওকে না হয়তো নিজেকেই বলতে চায় । কিন্তু মার কথা ভেবে কষ্ট হয় , দাদার জন্য কষ্ট দেখতে পায় মায়ের চোখে । ভাবতে ভাবতেই মিষ্টির দোকানে ঢুকে পড়েছে উস্রি । মার জন্য কালাকাদ আর বাবার জন্য ছানার জিলিপি নিয়ে নিল একটু । এইসব বারণ যদিও কিন্তু আজকের দিনটা তো অন্যরকম ।
উঠোন থেকেই মা মা চিৎকার শুরু করে দিলো উস্রি,বাবা বসে বারান্দায়, যথারীতি মা ফোন এ ব্যস্ত , বড়ো বিরক্ত হয় এই একটা ব্যাপারে সে । বাবার ওষুধ গুলো গুনে নিচ্ছিল ততক্ষনে, কটা খেয়েছে কটা আছে । সব খেয়েছি ঘড়ি ধরে তোর চিন্তা নেই , ওরে তোর বাবা এখনও বুড়ো হয়নি রে , মরতে দেরি আছে, একটু রাগানোর জন্যই বললো অজিত । চুপ করবে তুমি বাবা ? খালি বাজে কথা ,মুখে বিরক্ত নিয়ে নিজের কাজে মন দিল উস্রি।
ওমা কখন এলি রুপু ? উত্তর শোনার অপেক্ষা করল না শর্মিলা , নিজেই বলতে থাকলো , এই শুনছো সমু আসছে আগামী সপ্তাহে ,তোর দাদা ফোন করেছিল রুপু , তুই পিসি হতে চলেছিস ,তোকেও ফোন করবে সমু , পরমার শরীর টা ভালো নেই বললো ,৩ মাস চলছে,ডাক্তার বেড রেস্ট এ থাকতে বলেছে , সমু বলছিল এইসময় টা ওদের কাছে গিয়ে থাকতে ,বললো মা তুমি এখানে থাকলে আমরা একটু নিশ্চিন্ত হই, আনন্দে মার কথা জড়িয়ে যাচ্ছে দেখছিল উস্রি । তা তুমি কি যাবে ভাবছ ? জিজ্ঞেস করলো অজিত । হ্যাঁ ,তুমি কটা মাস রুপু র কাছে থেকো , তাছাড়া প্রথম সন্তান এইসময় তো মাকে দরকার পাশে , তুমি না করোনা ,ছেলেই হবে দেখো , এ পরিবারে তো প্রথম সন্তান ছেলেই হয়, বংশধর আসছে বলেই এক গাল হাসি মুখে জোর হাত কপালে ঠেকলো শর্মিলা। কিরে রুপু তুই হটাৎ মিষ্টি নিয়ে এলি ? এবার শর্মিলা উত্তরের অপেক্ষায় । উস্রি নির্বিকার।।
প্রীতি চক্রবর্তী
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Your comment is valuable to us thank you and please subscribe through email