বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট

Latest news, শীঘ্রই আসছে

ছবি
Latest news , শীঘ্রই আসছে, বঙ্গ লিখন , খবর আমরা খবর নিয়ে আসবো আপনাদের সামনে , যা হবে  ১০০ শতাংশ সত্যি,  Notification টা allow করে, চলতি  ভাষায় লেখা খবর পেয়ে যান আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারে সোজাসুজি। আমাদের খবর পাঠাতে বা আমাদের সাথে যুক্ত হতে  যোগাযোগ করুন আমাদের ফেসবুক পেজ এ,বা ইমেইল করুন sanyalsaptarshi57@gmail.com , এ।

বাংলা গল্প কলহ-কপট bengali story koloh kopot by souvik chaterjee

koloho kopot, bangla golpo online koloho kopot, bengali stories to read koloho kopot

বাংলা গল্প কলহ-কপট bengali story koloh kopot,bongolikhon


 'ধ্যাততেরিকা'!ঘরে পা দিলি,আর কারেন্ট অফ...'দাদা ধমকে উঠলো।আমার আসা আর কারেন্ট যাওয়ায়,বৈদ্যুতিক কণার সাথে কোনো হাইপোথেটিক্যাল সম্পর্ক আছে কি না ভাবছি!তখনই পাশের ঘর থেকে বৌদি বললেন,'সারাদিন এক অসহ্য নরক যন্ত্রনা,এর থেকে মুক্তি পাওয়াই মুশকিল!...এ জন্মে ছাড় নেই'। অনতিবিলম্বেই বুঝতে পারলাম হালকা কাশ্মীরি কেস,শান্তি চুক্তি লঙ্ঘন হতেই বেশি দেখা যায়।ভাবলাম বাড়ি ফেরার পথে,'দাদার বাড়ি ঘুরে যাই'কিন্তু এমন গোলাগুলির মধ্যে পরে যাবো কে জানতো! এখন বিস্তর লাফালাফি চলবে।তারপর সিজ ফায়ার হবে।অতঃপর নেমে আসবে কার্ফু। অর্থাৎ ভাব বাচ্যে কথা বিনিময় যখন যে সামনে থাকবে সে হবে মাধ্যম,আর কেউ না থাকলে শূন্যে গুলি ছোঁড়ার মতো করে শূন্যে কথা উড়বে! 'তিন দিন ধরে পোস্ত নেই,যেন এনে রাখা হয়!'কিম্বা 'দুদিন ধরে কেবলের টাকাটা ফ্রিজের মাথায় পরে রয়েচে...'ইত্যাদি।কপালের ফেরে এই টয়েন্টি টয়েন্টি ম্যাচের পিচ আজকে আমি,আমার ওপর দিয়ে অনেক ভার্চুয়াল দৌড়াদৌড়ি হবে,এ অনিবার্য।
 ''দেখলি তোর বৌদির কেমন ঠেস মারা কথা! আমি শালা 'নরক যন্তনা'!''
 'না,না তোমায় বলেনি গো,এই করোনা,লকডাউন এসব নিয়ে বলছে মনে হলো!'সত্যিটাচাপা দেওয়াটাই উচিত এখন।
 'পড়লো কথা সবার মাঝে,যার কথা তার গায়ে বাজে..'বৌদি রান্নাঘর থেকে তোপ দাগলেন।
 'দ্যাখো সরাসরি বলো,কী বলছো...পেঁয়াজি মারা কথা আমার সহ্য হয় না..'
 আমি বেগতিক বুঝলাম।'আমি তাহলে উঠি আজ!'
 'না না ভাই,চা খেয়ে যাও,কতদিন পর এলে...'
 বসেই গেলাম কিঞ্চিত। ভাবলাম আজ আর নিস্তার নেই।
 'আর বলো না ভাই,সারাটা দিন আমার পিছনে পরে আছে;আজ এটা কাল সেটা!কোনোদিন কচুর শাক দিয়ে রুই মাছ,কোনো দিন সরষে বাঁটা দিয়ে বোয়াল,আজ আবার বলছে পেয়ারা পাতা বেঁটে কুচো চিঙড়ি!,বাপের কালে শুনিনি!'
 'তোমার বাপের কালে তুমি আলু পোস্ত আর বিউলির ডাল ছাড়া কিছু শুনেছিলে কি!'দাদা কম যাবে? তা আবার হয় নাকি! আমি মাঝে গৌতম বুদ্ধ সেজে শান্তির বাণি ছোটাচ্ছি..'না না,তা কেন সব রান্নাই খেতে হবে বৈকি!'
 'তুমি থামো তো ভাই,ওকে তুমি কতটা চেনো!ফুল বিষাক্ত পিস!'দুই পক্ষের গোলাগুলিতে গুলি খাওয়া নিরপরাধ নাগরিকের মতো সেঁটে গেলাম।
 'আমি বিষ,তুমি কী?বিষবাস্প।মুখ খুললেই ভোপাল ট্র‍্যাজিডি,কী করে লাস্টিং করছি, এক আমিই জানি!'দাদা ফুল ফেরোসাস...
 'শোনো ভাই,তোমার দাদার পলিটিশিয়ান হওয়া উচিত ছিলো! যেদিন আমায় জব্দ করতে চায়,গুচ্ছের চুনো মাছ এনে ফেলে দেয়...নে এবার বেছে মর তুই সারাদিন ধরে..'
 'খাদ্যরসিক মানুষ আমি,এটা কি অজানা?'
 'তুমি আর রস? বিয়ের পর দিন থেকে দেখছি,খটখটে তাল বাখারি মার্কা,নো রস,নো হিউমার!'আমি টেনিস কোর্টের দর্শকের মতো ঘার একবার এদিক একবার ওদিক করছি।অসহায় ঠিক নয়,নিরুপায় অবস্থা আমার।'কার মুখ দেখে যে উঠেছিলাম আজকে!ওহো,মনে পড়লো ঘুম ভেঙ্গেই আজ আয়নায় চুল আঁচড়েছিলাম।অপয়া কি আর গায়ে লেখা থাকে! সময়ই জানান দেয়,যেমন দিচ্ছে এখম।কি কুক্ষনে যে এলাম।
 'শোনো ভাই! কোনদিন দেখবো বাঁশপাতা এনে বলবে ইলিশ মাছ দিয়ে বেঁটে দাও..'
 'বাঁশ পাতা আনতে হবে কেন? ওটা তো বাড়িতেই আছে,ফুল বাঁশঝাড়,যৌতুকে তোমার বাবা দিয়ে গিয়েছেন।'
 'তোমার বাবাও অনেক বাঁশ দিয়েছেন,আমি প্যান্ডেল বেঁধে আছি..'
 চুড়ান্ত বাপ তোলা-তুলি শুরু হয়েছে।গুলি শেষের দিকে এবার যেন রকেট লঞ্চার! লঘুগুরু ঘেঁটে চটকে ফুচকার তরকারি হয়ে গিয়েছে।অস্বস্তির শীর্ষে মহাদেব সেজে বসে আছি,এক কাপ চা এর আশায়।
 'জানো ভাই,কতদিন বলেছি,সাবান দানি জলে থই থই করে; চান করে বেরিয়ে আসার আগে,খেয়াল করবে,ও বাবা,বাথরুমে এমন গানে মশগুল হন উনি!গলা নয়তো যেন দাঁড় কাক!'
 'তোমার গান শুনেছিলাম,বাসর ঘরে সাত ভাই চম্পা গেয়েছিলে,সেটার যা সুর,ধনধান্য একি সুর!...আর তোমাকেও তো রোজ বলি,মাইক্রোওভেনের সুইচটা খেয়াল করে অফ করো,তুমি করো?'
 এই মহেন্দ্রক্ষণে বৌদি চা এর কাপ ট্রে তে সাজিয়ে ঘরে  ঢুকছেন,'কী বললে তুমি?'এবার যেন অধিক উত্তেজিত।কার্পেটে হোঁচট খেলেন।সমস্ত আগজ্বলন্ত চা হাতে পড়লো,মূহুর্তে চামড়া পুড়ে,ফোসকা।মূহুর্তে ভয়ানক অবস্থা হয়ে গেলো হাতটার!বৌদি 'মা গো..'বলে পরেই যাচ্ছিলন,দাদা ঝট করে গিয়ে ধরে নিলেন।'কী যে করোনা,সব কাজে তাড়াহুড়ো.. '
 'এই দেখ তো! ও ঘরে ড্রয়ারে বার্নল আছে বোধহয়..'উদ্বেগ একটু বেশিই যেন দাদার স্বরে!আমি চট করে উঠে গেলাম,পাশের ঘরে বার্নল আনতে।শুনতে পাচ্ছিলাম ওদের কথোপকথন।
 'খুব জ্বলছে গো!'
 'না,কিচ্ছু না,এইতো আমি আছি! কেন এত হুরো তাড়া করো তুমি?..'
 'খুব কষ্ট হচ্ছে গো...'
 আমার বেশ লাগলো।মনে হলো বার্নলটা আর একটু খুঁজে পেতে দেরি হোক।ফল্গুধারায় যে প্রেম বয়ে যায় 'আহা..অক্ষয় হোক'।বুঝলাম কলহ টা কপট,প্রেমটাই আসল।আর বুঝলাম,ঘুম ভেঙ্গে যার মুখ দেখেছিলাম,সে অপয়া নয়,না হলে এমন সুন্দরতম অনুভূতির সাক্ষ্য কজনই বা হতে পারে!

 ----------

 শৌভিক চ্যাটার্জী


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বাংলা রহস্য গল্প 'ক্রিমিনাল', bengali thriller story Criminal by Tina Bhatyacharya, bongo likhon

বাংলা প্রতিবেদন - ক্ষুদিরাম bengali article on sahid khudiram bose

বাংলা-কবিতা - প্রণমি তোমারে,Bangla kobita pronomi tomare