বৈশিষ্ট্যযুক্ত পোস্ট

Latest news, শীঘ্রই আসছে

ছবি
Latest news , শীঘ্রই আসছে, বঙ্গ লিখন , খবর আমরা খবর নিয়ে আসবো আপনাদের সামনে , যা হবে  ১০০ শতাংশ সত্যি,  Notification টা allow করে, চলতি  ভাষায় লেখা খবর পেয়ে যান আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারে সোজাসুজি। আমাদের খবর পাঠাতে বা আমাদের সাথে যুক্ত হতে  যোগাযোগ করুন আমাদের ফেসবুক পেজ এ,বা ইমেইল করুন sanyalsaptarshi57@gmail.com , এ।

বাংলা রহস্য গল্প ইস্তক bengali thriller story novel istok Bangla rohosyo golpo istok by sourov sen

bangla golpo online istok, bengali stories to read istok



বাংলা রহস্য গল্প ইস্তক bengali thriller story novel istok Bangla rohosyo golpo istok, bongo likhon


পাহাড়ের ধার দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে একটা খোলা জায়গায় এসে দাঁড়ায় অর্নব। অর্নব মজুমদার। পেশায় ফটোগ্রাফার। হিমালয়ের এই অঞ্চলটায় সে প্রথম এসেছে। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলগুলো একা ঘুরে বেড়ানোটা তার নেশায় পরিনত হয়েছে। সন্ধ্যা হয়ে আসছে। খোলা জায়গাটার একপাশে তাঁবু খাটায় অর্নব। রাতের খাবার তৈরী করে খেতে খেতে হঠাৎ তার একটা ‌অদ্ভুত অনুভূতি হয়। তার মনে হয় কেউ যেন তাকে দেখছে। এর আগে এতবার পাহাড়ে এসেছে কিন্তু কোনোদিনও এমন অভিজ্ঞতা তার হয়নি। খেতে খেতে একবার চারিধারে তাকিয়ে নেয় অর্নব। তাঁবুর সামনে জ্বলা আগুনের আলো যতদুর পরেছে তার মধ্যে দিয়ে কাউকে দেখতে পায় না সে। খাবার শেষ করে তাঁবুতে ঢুকতে গিয়ে হঠাৎ তাঁবুর পিছনে চোখ যায় তার। অবাক হয়ে দেখে মাইল খানেক দুরে মশালের মতো কি যেন একটা জ্বলছে। এই পান্ডব বর্জিত জায়গায় অমন মশাল জ্বালবে কে! ভাবতে ভাবতে তাঁবুতে ঢুকে শুয়ে পরে সে। পরদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে মেজাজটা খারাপ হয়ে যায় অর্নবের। বৃষ্টি পড়ছে। তার ছবি তোলা আজ আর হলো না। আকাশের যা অবস্থা তাতে করে আজ আর এগুনো সম্ভব হবে কিনা তাও ভেবে পেলোনা সে। সারাদিন তাঁবুর মধ্যেই শুয়ে বসে কাটিয়ে দিলো। বিকালের দিকে বৃষ্টিটা ধরে এলে কিছুটা এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলো অর্নব। তখনও সে জানতো না সামনে কি অপেক্ষা করে আছে তার জন্য!

সবকিছু গুছিয়ে মাইল খানেক আসার পরই আবার আকাশ কালো করে বৃষ্টি শুরু হলো। সামনে একটু তফাতে একটা গুহা দেখতে পেয়ে সেদিকে এগিয়ে গেলো অর্নব। গুহাটার সামনে ছোটো একটু জায়গা। সেখানে কোনো মতে দাঁড়ালো সে। গুহাটার গভীরতা বাইরে থেকে বোঝার কোনো উপায় নেই। ঘন কালো অন্ধকার যেনো গ্রাস করে রেখেছে গুহার ভিতরটা। এদিকে বাইরে বৃষ্টির তেজ বেড়েই চলেছে। সাথে অন্ধকার ঢেকে ফেলছে পাহাড়ের প্রতিটা কোন। নিজের ভুল সিদ্ধান্তের উপর নিজেরই রাগ ধরে অর্নবের।

বৃষ্টির তেজ আরো বেড়ে উঠেছে। অর্নব যেখানে দাঁড়িয়ে ছিলে সেখানেও জল আসতে শুরু করেছে। অগত্যা উপায় না দেখে ব্যাগ থেকে ছোট্টো টর্চটা বেড় করে গুহার ভিতর দিকে ঢুকে আসে সে। কিছুটা ঢুকে আসতেই অর্নব বুঝতে পারে সে যতটা ভেবেছিলো গুহাটা তার থেকেও গভীর। ভিতরে কি আছে তা জানার অদম্য ইচ্ছা হঠাৎ করে পেয়ে বসে তার মাথায়। সাহসে ভর করে এগুতে থাকে অর্নব। কিছুটা এগুনোর পর হঠাৎ করে একটা শব্দ কানে আসে অর্নবের। মন দিয়ে শুনলে মনে হয় কেউ যেন দুর্বোধ্য ভাষায় কিছু মন্ত্র উচ্চারন করছে। শব্দ লক্ষ্য করে এগুবে কিনা ভাবছে এমন সময় সে খেয়াল করে একটা আলো তার দিকেই এগিয়ে আসছে। সে যেখানে দাঁড়িয়ে ছিলো তার পাশেই একটা বড় পাথর ছিল। অর্নব তাড়াতাড়ি পাথরটার আড়ালে বসে পরে। একটু পরেই সে দেখতে পায় অদ্ভুত পোশাক পড়া একটি লোক মশাল হাতে গুহা মুখের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। অর্নবের বুঝতে বাকি রইলো না কাল রাতে এই আলোই সে দেখেছে। একটু পর লোকটা আবার আগের রাস্তা ধরে ফিরতেই অর্নব তাকে অনুসরন করতে শুরু করলো। তাকে জানতেই হবে লোক চক্ষুর আড়ালে এখানে কি ঘটে চলেছে। আরো কিছুটা এগুতে অর্নব দেখলো গুহার রাস্তাটা একটা ছোটো ঘরের মতো জায়গায় প্রবেশ করেছে। ঘরটার ভিতর থেকে হালকা আলোর রেখা বাইরে আসছে। অর্নব এগিয়ে গিয়ে দরজার একপাশে দাঁড়ালো। ভিতরে উঁকি দিতেই চমকে উঠলো সে। ঘরের মধ্যে ভীষন দর্শন একটি মূর্তি। এমন মূর্তি অর্নব আগে কখনও দেখেনি। তার সামনে দরজার দিকে পিঠ করে বসে আছে লোকটা। মুখে বিড়বিড় করে চলেছে কি একটা দুর্বোধ্য মন্ত্র। এই ভাবে কতটা সময় কেটেছে খেয়াল নেই অর্নবের। হঠাৎ লোকটার গমগমে গলা শুনে চমকে ওঠে অর্নব।
-- 'ভিতরে এসো।'
লোকটা তাকেই ডাকছে। তার দিকে পিঠ করে থাকা সত্ত্বেও লোকটা জানলো কি করে অর্নবের অস্তিত্বের কথা! ভেবে পায়না অর্নব। ভয়ে ভয়ে ঢুকে আসে ভিতরে। অর্নব ঘরে ঢুকতেই লোকটা মুখ ফেরায়। সেই মুখ ওই মুর্তির মতোই ভয়ঙ্কর। লোকটা আবার বলে ওঠে
-- 'এই যে মূর্তি দেখছিস ইনি হলেন ইস্তক। এনার উপাচারের প্রধান জিনিষ হলো শবদেহ। প্রতি অমাব্যায় একটি করে শবদেহের উপর বসে এনার তপস্যা করতে হয়। এই রকম ৫০টি শবদেহের উপর বসে তপস্যা করতে পারলে অমরত্ত্ব লাভ হয়। এই শবদেহের ব্যবস্থা ইস্তক নিজেই করে দেন। ৪৯টি শবদেহের উপর তপস্যা করা হয়ে গেছে আমার। ৫০তম হিসাবে ইস্তক তোকে জোগাড় করে দিয়েছে'। এই বলে গুহা কাঁপিয়ে হাসতে থাকে লোকটা। এবার মনে পরে অর্নবের। সে আসার সময় নিচের গ্রামের একজন লোক তাকে বলেছিল এই পথে এসে অনেক মানুষ হারিয়ে গেছে। অর্নবের বুঝতে বাকি থাকে না তাদের করুন পরিনতির কথা। এইবার ভয় হতে থাকে অর্নবের। এর ফাঁকে কখন লোকটার হাতে একটা কাটারি উঠে এসেছে খেয়াল করেনি অর্নব। আচমকা লোকটা পাগলের মতো ঝাঁপিয়ে পরে অর্নবের উপর। একটু সামলে নিয়ে অর্নব হাতে ধরা তাঁবুর ব্যাগটা দিয়ে সজোরে আঘাত করে লোকটাকে। টাল সামলাতে না পেরে লোকটা গিয়ে পরে ইস্কত নামক ভয়ঙ্কর মুর্তিটার উপর। মাথায় আঘাতের ফলে অজ্ঞান হয়ে যায় লোকটা। আর এক মুহুর্ত সময় নষ্ট করে না অর্নব। একছুটে বেড়িয়ে আসে গুহার ভিতর থেকে। তারপর সোজা নিচের গ্রামে ফেরার রাস্তা ধরে। গ্রামে ফিরে পুলিশকে সব জানায় সে। তারপর সোজা বাড়ি ফেরার পথ ধরে। পরে খবরে শুনেছিল হিমালয়ের এক গুহা থেকে আধপাগল একজন খুনি ধরা পরেছিল। লোকটা অমরত্ব লাভের আশায় ৪৯ জন মানুষকে খুন করেছিলো। এরপর অর্নব আর একা কখনও পাহাড়ে যায় নি...।

----------

সৌরভ সেন/sourav sen

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বাংলা রহস্য গল্প 'ক্রিমিনাল', bengali thriller story Criminal by Tina Bhatyacharya, bongo likhon

বাংলা প্রতিবেদন - ক্ষুদিরাম bengali article on sahid khudiram bose

বাংলা-কবিতা - প্রণমি তোমারে,Bangla kobita pronomi tomare