বাংলা গল্প - আমার কথা
" ও দিদি,মোচা,থোড়,কচুর শাক,হাঁসডিম আছে, নেবেএএএ,নাও না গো,ও দিদি "....
তৃণা তার সরকারি আবাসনের তিন তলার ফ্ল্যাটের ব্যলকনি তে জামাকাপড় মেলছিল,নীচে র রাস্তা থেকে ডাক শুনতে পেল।সে ঝুঁকে নীচে তাকাল।একটি কমবয়সী বউ মাথায় ঝুড়ি নিয়ে ডাকছে.. " ও দিদি নাও না গো.. সব দেশি জিনিস।"
তৃণা ভাবে ভালোই হল, বাজার যেতে হবে না।এখান থেকে কিছু নিয়ে দেখি।ওকে দাঁড়াতে বলে হাউসকোট জড়িয়ে নিয়ে মানিব্যাগ নিয়ে নীচে নামল।
" কচুর শাক?গলা কুটকুট করবে না ত? দাও তাহলে। আর কটা ডিম ও দাও।" তৃণা বলল বউটিকে।"দিদি, ভাল প্লাস্টিক নেই গো,আমি ঊপরে তুলে দেব তোমায়?"
"না থাক, আমি পারব।" তৃণা ওর দাম মিটিয়ে উপরে উঠতে যাচ্ছে, " ও দিদি, একটু আমার ব্যাগ টা দেখবে গো,সামনের টিউকলে একটু জল খেয়ে নেব তালে।"তৃণা দাঁড়ায়। বউটি কলখুলে হাত কোষ করে জল খেল। "তুমি কোথায় থাক? " তৃণা জিজ্ঞেস করে।
"শেরপুর, দিদি।"
"সে ত অনেক দূর... প্রায় দু'ঘন্টা র বাসরাস্তা.."
"হ্যাঁ গো,দিদি।ওই হাতি গাড়ি করে এসেছি,এখন ত তেমন বাস টাস চলছে না।"
"তোমার নাম কি? "
"শাকিনা বিবি"
" এতপথ এসে এইকটা জিনিস বিক্রি করে তোমার আর কতই বা লাভ হবে, শাকিনা?"
" দিদি,বাড়িতে একটা ও টাকা নেই গো।বর জরি সেলাইয়ের কাজ করে। সে ত দুমাস প্রায় বন্ধ।দেওর ত সেই দিল্লি না কোথায় আটকে.. কোন খবর নেই।গ্রামে এই সময় সব ছেলেরা বসে,কোন রোজগার নেই..আমরা তাই মেয়ে বউ রা মিলে বাড়ি বাড়ি জিনিস বিক্রি করে কটা কাঁচা পয়সা রোজগার করছি।"
" পঞ্চায়েত থেকে রেশনে চাল, ডাল পাচ্ছ না? "
" পাচ্ছি দিদি,কিন্তু হাতে ত আর একটা পয়সা ও নেই গো,দিদি। কি যে রোগ এল দেশে। গরীব বড়লোক কাউকে ছাড় দিচ্ছে না।এইভাবে কি চলে বল? "
" শাকিনা,তুমি রোজা রাখ নি?"
" রেখেছিলাম দিদি।কিন্তু সারাদিন রোদে ঘুরে আর শরীরে পারি নি।কাল খুব বমি হয়েছে।তাই আজ আর রাখিনি।"
তৃণা চুপ করে শাকিনা কে দেখতে থাকে।
মাদার ইন্ডিয়া আস্তে আস্তে তার ঝুড়ি মাথায় তুলছে।"আসি গো,দিদি।কাল আবার আসব।কচুর শাকে গলা কুটালে কাল তোমায় দাম ফেরত দেব।আসলে আমি ত কোনদিন এসব কাজ করি নি, তাই বড় লজ্জা করে.. কিন্তু দেশে ত এখন কোন কাজই নেই, হাতে দুটো পয়সা না থাকলে শুধু চাল ডাল দিয়ে কি চলে বলো?"
নিশ্চুপ তৃণা শাকিনা র চলে যাওয়া দেখছে।
হঠাৎ শাকিনা ঘুরে দাঁড়ায়, জিজ্ঞেস করে "এই লকডাঊন কবে শেষ হবে তুমি কিছু জান দিদি? কবে আবার সব কাজ শুরু হবে?"
তৃণা তাড়াতাড়ি তিনতলা য় উঠতে শুরু করে।ভাগ্যিস মুখের অর্ধেক টা মাস্কে ঢাকা ছিল।সরকারি আবাসনে র ছত্রছায়া য় থাকা তৃণা শেরপুরের মাদার ইণ্ডিয়া শাকিনা র বেঁচে থাকার লড়াই কে কুর্ণিশ জানায়।
#তনুকা চৌধুরী #
লেখিকার অন্যান্য গল্প
দারুন
উত্তরমুছুনGood quality content
উত্তরমুছুন